বিকেলের আড্ডা!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
আমি সাধারণত খুব একটা বাইরে যায় না। ঐ দরকারে যখন যাওয়া লাগে তখন আর কী। এছাড়া অধিকাংশ সময় বাড়িতেই থাকি। আমার আবার অসংখ্য বন্ধু নেই যে তাদের সঙ্গে ঘুরতে যাব। এখানে সেখানে চলে যাব যখন তখন। আমার সেরকম বন্ধু একজনই লিখন। ওর কথা আগেও অনেক বার বলেছি। আমাদের বন্ধুত্বের বয়স প্রায় ৮ বছর হয়ে গিয়েছে। লিখন এবং আমি যখন একসঙ্গে এলাকায় থাকি তখন আমরা একসঙ্গে ঘোরাঘুরি করি। বাইরে বের হলে আমাদের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে সেটা আমরা অনুসরণ করে থাকি সাধারণত। তবে ইদানিং আমাদের খুব একটা বের হওয়া হয়ে উঠে না। কারণ লিখন বিকেলে ঐ ক্রিকেট খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সেজন্য আমিও আর বেশি কিছু বলি না। কিন্তু বেশ কিছুদিন পর গত সপ্তাহে আমি এবং লিখন একদিন বের হয়েছিলাম। বাইরে যাওয়ার আগ্রহটা যদিও লিখনই আগে প্রকাশ করেছিল। যাইহোক তারপর আর দেরি করিনি। লিখন বলার পরেই কিছুক্ষণের মধ্যে তৈরি হয়ে বের হয়ে যায় দুজন।
আমাকে অপেক্ষা করানো ওর অনেক পুরাতন অভ্যাস। যাইহোক আমার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে হা হা। তবে এইদিন লিখন আমাকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করায়নি মাএ ১০ মিনিট। লিখন আসলে আমরা দুজন বাইকে করে বের হয়ে পড়ি। আমরা প্রতিনিয়ত গ্রামের দিকে যায় ঘুরতে। এইদিনও তার কোন ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু এইদিন কেন জানি গ্রামের ভেতরেও ঘুরতে আর ভালো লাগছিল না। তারপর দুজন পরিকল্পনা করে চলে গেলাম আমাদের কুমারখালী এম এন স্কুলের পেছনে। ঐটা মূলত একটা নদীর ধার। অনেকে এম এন পার্কও বলে থাকে। জায়গাটা অনেক সুন্দর। আমরা ওখানে সাধারণত বসে আড্ডা দেয়। এবং আলম ভাইয়ের চটপটি ফুসকা খেয়ে থাকি। আলম ভাই বেশ নাম করা মানুষ ওখানে। সবাই আলম ভাইয়ের ফুসকা খাওয়ার জন্য যায়। তবে আরেকটা কারণ আছে সেটা হলো নদী।
কিন্তু এখন শীতের সময় নদীর পানি শুকিয়ে গিয়েছে সেজন্য খুব একটা ভালো লাগে না। কিন্তু বর্ষাকালে যখন নদীতে পানি থাকে জায়গাটা এককথায় অসাধারণ লাগে। এবং তখন অসংখ্য লোক সেখানে আসে। যাইহোক প্রথমে আমরা আলম ভাইয়ের ফুসকা খাই। আলম ভাই মোটামুটি আমাদের বেশ ভালোভাবে চিনে। নিয়মিত যায় তো সেজন্য। ফুসকা খাওয়া শেষ করে লিখন চটপটি খেলেও আমি ঝালমুড়ি খাই। কারণ অনেকদিন ঝালমুড়ি খাইনি। ফুসকা চটপটি ঝালমুড়ি মোটামুটি সবকিছুই খাওয়া হলো। ততক্ষণে আমি বেশ অনেক গুলো ফটোগ্রাফি করে নিয়েছি ফুসকা এবং নদীর। এবং বিকেল শেষ প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। তো আমরা দুজন প্ল্যান করে চলে যায় পাশেই গড়াই নদীর উপর দিয়ে নির্মিত গোলাম কিবরিয়া সেতুতে। বতর্মানে এই জায়গাটা ঘোরার জন্য বেশ ভালোই জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
যখন আমরা সেতুর উপর গিয়েছি ততক্ষণে সন্ধ্যা অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে এবং চারিদিকে বেশ অন্ধকার। সেতুর উপরে থাকা স্ট্রেট লাইট গুলো জ্বলে উঠেছে। স্ট্রেট লাইট যখন জ্বলে উঠে সেতুটা দেখতে অসাধারণ লাগে। ঐসময় আমি বেশ কিছু ফটোগ্রাফি করি। তবে সত্যি বলতে এখানে একা এসে মজা নেয়। কাউকে সঙ্গে করে আনতে হবে। মানে বুঝেছেন নিশ্চয়ই আমি কার কথা বলছি। কিন্তু আমার সেরকম কেউ নেই। কী আর করার আমি আর লিখন বেশ কিছুক্ষণ সময় ওখানে থাকি। বেশ ভালোই লাগছিল। বেরিয়েছিলাম সেই কোন বিকেলে। দেখতে দেখতে অনেক ট সময় কেটে গিয়েছে কখন বুঝতেই পারিনি। অথচ অন্য দিন এই সময় টা কাটতেই চাই না। আমাদের সুখের মূহুর্ত টা খুব দ্রুত যায়। কিন্তু দুঃখের সময় টা যেতেই চাই না। এর পেছনে আসল কারণ টা কী বলতে পারবেন? আমার ঠিক জানা নেই।
------- | ------ |
---|---|
ফটোগ্রাফার | @emon42 |
ডিভাইস | VIVO Y91C |
সময় | ডিসেম্বর ,২০২৩ |
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
নদীর পাড়ে গিয়ে বিকেল মুহূর্তে দারুন সময় পার করেছেন দেখছি। গড়াই নদীর তীরে অনেকদিন হলো যাওয়া হয় না। পানির পরিমাণ খুবই কম থাকে শীতকালীন সময়ে । রাতের ব্রিজের ফটোগ্রাফি খুবই সুন্দর ছিল। যেখানে আড্ডা দেওয়ার দারুণ একটা জায়গা । বন্ধুদের সাথে এরকম সময় কাটাতে পারলে ভালই লাগে।
আসলে ভালো বন্ধু দু একজন থাকলেই যথেষ্ট। শুনে খুশি হলাম তোমার একজন ভালো বন্ধু রয়েছে এবং তার সাথে বেশ লম্বা একটা সময়ের বন্ধুত্ব রয়েছে। ফুসকা আমার তেমন পছন্দ না , তবে তোমরা নদীর পাড়ে বসে বেশ স্বাদের ফুসকা খেয়েছো। আর ছবিগুলো দেখে বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ চমৎকার পোস্টটি উপহার দেয়ার জন্য।
ফুচকা এবং ঝালমুড়ি আমার ভীষণ প্রিয়। খেতে অনেক বেশি মজা লাগে। ঠিক বলেছেন নদীর পানি এখন কমে গেছে এজন্য এখন নদীর পারে তেমন একটা ভালো লাগে না। বর্ষাকালে ভালো লাগে। সন্ধ্যার পর ব্রিজটি দেখতে অনেক সুন্দর লাগতেছে। আপনার জন্য শুভ কামনা রইল ভালো থাকবেন।
সত্যি কথা বলতে বন্ধুর মত বন্ধু যদি থাকে তাহলে দুই একজনই যথেষ্ট। আর আমার অনেকটা আপনার মত অভ্যাস আছে, যে বাইরে খুব বেশি একটা বের হওয়া হয় না। যাই হোক আমার কাছে ঝালমুড়ি অতটা ভালো না লাগলেও ফুচকা অনেক পছন্দের। আপনার শেয়ার করা সবগুলো ফটোগ্রাফি এবং নদীর পাড়ের ফটোগ্রাফি গুলো বেশ সুন্দর ছিল ভাই।
বোঝাই যাচ্ছে আপনার আর লিখন সাহেবের বন্ধুত্বটা অনেক আগের এবং খুবই গভীরে যার কারণে দুজন মাঝে মাঝে বাহিরে বের হন ঘোরাঘুরির উদ্দেশ্যে। মাঝে মাঝে ঘুরাঘুরি করাটা উচিত বলে আমি মনে করি এতে করে মন মানসিকতা অনেক বেশি ভালো থাকে যদিও কিছুটা দেরি করেই লিখুন সাহেব আপনার কাছে এসেছে এবং দুজন মিলে সন্দেহ অবধি একসাথে কাটিয়েছেন। আসলেই ব্রিজের উপর যখন স্টেটলাইট গুলো জ্বালানো হয় তখন সেই দৃশ্যটা অসাধারণ মাঝে মাঝেই ওই ব্রিজের উপর যাওয়া হয় রাতের বেলা। সুন্দর এই মুহূর্তটা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
ভাইয়া বর্তমানের জেনারেশন বাহিরে আড্ডা ঘুরাঘুরি কম করে। মোবাইল আর ইন্টারনেট নিয়ে বেশি সময় কাটে। তারপরও আপনি আর আপনার বন্ধু নদীর পাড়ে ঘুরেছন,সেখানে ফুচকাও খেলন। নদীর পাড় ফুচকা মামা কিভাবে পেলেন সেই চিন্তাই করছি। ফটোগ্রাফি গুলো দারুন ছিল। ধন্যবাদ।