আমার বসন্ত শেষের বাগানের চালচিত্র।
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,
সমস্ত ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের বাঙালি সহযাত্রীদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।


আশা করি আপনারা ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ আছেন, সব দিক থেকে ভালোও আছেন। আপনাদের সবার ভালো থাকা কামনা করে শুরু করছি আজকের ব্লগ।
এখানে ব্লগ লিখছি প্রায় এগারো মাস। আর প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত কোন একদিনও ব্লগ লিখিনি এমন হয়নি। কখনও সপ্তাহে দশটা পোস্টও করেছি। কিন্তু এতোদিন ব্লগ লেখা সহজ নয়। কারণ নিয়মিত আলাদা কিছু লিখতে হয়। আমার ক্ষেত্রে টপিক খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। সেক্ষেত্রে নানান দৈনন্দিন জীবনের কথা লিখেছি এমনও হয়েছে। তাই এখন খুব সহজেই বলতে পারি আমার পছন্দ অপছন্দ ইত্যাদিগুলো আমার বন্ধুরা মানে আপনারা অনেকটাই জানেন।
সেই জায়গা থেকেই বলছি, প্রবাসে ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকলেও আমার যে ছোট্ট একটা বাগান আছে তা বোধকরি অনেকেই জানেন। টবে গাছ করা এবং তাতে ফুল ফোটানো খুব সোজা নয়। তাও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ফুল ফুটিয়েই চলেছি। যে গাছগুলো এক বছরের পুরনো হয়ে গেল তাতে বেশ ভালোই ফুল ফুটছে। তবে আমি যেহেতু মাঝে মধ্যেই বেড়াতে চলে যাই বা বাড়ি চলে যাই তাই নিয়মিত পরিচর্যায় ব্যাঘাত আসে। সেটা আবার পরবর্তীতে আমি পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি।
শীতের বাগান করেছিলাম অল্প করে তবে সেই সমস্ত ফুলের ছবি তোলা হয়নি, আসলে সেই দিনগুলোতে আমার মেয়ের পরীক্ষার প্রিপারেশন নিয়ে দুজনেই খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম।
আর যখন সকাল বেলায় বাগানে গেলাম গাছে জল দিতে এবং টুকটাক পরিচর্যা করতে, দেখলাম অনেক দিন পর বাগানটা যেন হাসছে। তাই ঠিক করলাম কিছু ছবি তুলি আর আপনাদের সাথে শেয়ার করে নেই আমার বর্তমান বাগানের চালচিত্র।
আমার মত এখানে অনেকেই আছে যারা বাগান প্রিয়। তাদের জন্য আশা করি আমার এই পোস্টটি খুবই ভালো লাগবে। বর্তমানে বাগানে যে সমস্ত গাছ রয়েছে তার বেশ কিছু ফুল গাছ আছে এছাড়াও আমার একটি ছোট্ট লাউ মাচা হয়েছে। গোয়া যাওয়ার আগে গাছটা বাঁচাতে পারবো না ভেবে কেটে ছোট করে বাইরের ব্যালকনিতে রেখেছিলাম। ফলে আমার যে কাজের মেয়ে সে অনায়াসেই জল দিতে পেরেছিল। ফিরে এসে আবার গাছটা ভালোই গজিয়েছে দেখলাম এবং পুনরায় আগের জায়গায় রেখে দিয়েছি। আর যে ডাটা গুলো কেটেছিলাম সেগুলো জল করে খেয়ে নিয়েছি। হা হা হা৷ একটা টমে টমেটো গাছ লাগিয়ে ছিলাম এখন সবুজ লাল টমেটো হয়ে রয়েছে। এছাড়াও ধনেপাতার বীজ ছড়িয়েছিলাম সেখানেও গাছ হয়েছে। ইচ্ছে আছে একটি ছোট লঙ্কা গাছ লাগানোর কিংবা তবে যে ধরনের সবজি হয় যেমন ধরুন ঢেঁড়স বা বেগুন এগুলো লাগানোর। তাই ভাবছি যখন বাড়ি যাব আসার সময় এই চারাগুলো নিয়ে আসব।
আজকে আমি আপনাদের সাথে আমার সবজি বাগানের ছবি দেবো না, ফুলের ছবিগুলো শেয়ার করব। সবজির ছবি পরে একদিন শেয়ার করব।
তাহলে চলুন শুরু করা যাক।
অপরাজিতা
![]() |
---|
![]() |
বরাবরের পছন্দের ফুল অপরাজিতা। এই অপরাজিতা ফুলের রংটা এত সুন্দর যে পছন্দের না হয়ে কোন উপায় থাকে না। আমার ইচ্ছে আছে এই গাছটিকে সুন্দর একটা আকৃতি দিয়ে রিপটিং করার। দেখা যাক পারি নাকি। রিপটিং পড়ার পর অবশ্যই আপনাদেরকে দেখাবো।
বেলফুল
![]() |
---|
![]() |
![]() |
এই গাছটা আমার বাগানের নতুন। নতুন মানে মাস দুই আগে কিনেছিলাম। যখন নিয়ে আসি তখন অনেক কুঁড়ি ছিল এবং সেগুলো ফুটে যাওয়ার পর আমি যথারীতি ভেবেছিলাম আর বোধহয় ফুল হবে না। কারণ এরকমটাই বেলফুলের সাথে বারবার অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাবার কাছ থেকে টিপস নিলাম কারণ আমার বাবা খুব ভালো বাগান পরিচর্যা করেন। সেই মতো আমিও পরিচর্যা করলাম। গাছটিকে পুরোপুরি রোদ্দুরে রেখেছি সময়ে সময়ে ওষুধ দিয়েছি এবং গোবর সার দিয়েছি। ফলে দেখুন গাছে আবারো কুঁড়ি এসেছে এবং পুরো গাছটার তো ছবি তুলিনি তাই ছবিটা নেই আসলে গোটা গাছ জুড়ে প্রচুর কুঁড়ি হয়েছে।
হলুদ বাগানবিলাস
![]() |
---|
![]() |
![]() |
![]() |
বাগান বিলাস ফুল ফোটানো খুবই সহজ। এই গাছে সেই ভাবে কোন পরিচর্যা লাগে না সময় সময়ে গোবর সার দিলেই ফুল হতে থাকে। যত রোদ তত ফুল। আর এই সময়টা যেহেতু বাগান বিলাসের সিজিন, কোনভাবেই আমি গাছগুলোকে কেটে ছোট করার ইচ্ছে প্রকাশ করিনি। ফলে গোটা গাছ জুড়ে অনেক ফুল হয়ে রয়েছে। বড় ইচ্ছে আছে, সাদা রঙের এবং লাল রংয়ের বোগেনভেলিয়া লাগানোর। দেখা যাক কতটা কি করতে পারি।
কুরচি বা শ্বেত দূতী
![]() |
---|
![]() |
এই ফুলটা বসন্তের শেষে ফুটে থাকে। আর গাছ ও খুব একটা বড় হয় না কারণ এটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। ফলে টবের পক্ষে একদমই উপযুক্ত। আমারও খুব ছোট্ট একটা টবের রয়েছে। সারা বছর যে অনেক ফুল দেয় তা নয় কিন্তু এই যে বসন্তকাল ফুরিয়ে আসছে এবং গ্রীষ্মকাল ঢুকে পড়ছে, এই সময়টা প্রচুর ফুল হচ্ছে। এবং দেখতেও বেশ ভালো লাগছে।
গাঁদা
![]() |
---|
![]() |
![]() |
শীতের বাগানে দুটো গাঁদা গাছ লাগিয়েছিলাম একটা কমলা রঙের একটা এই বাসন্তী হলুদ রঙের। কমলা রঙের গাঁদা গাছটি মরে গেছে সে আর বেঁচে নেই। আসলে রোদের এতটাই তাপ তার বেঁচে থাকা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে গিয়েছিল। তবে হলুদ রঙের গাঁদা গাছটি রয়েছে। অল্প অল্প ফুল দিচ্ছে। কিন্তু ফুলের আকার বেশ ছোট হয়ে গিয়েছে। গাছটিকে আমি ছায়াতেই রেখেছি। যতদিন থাকে।
সাদা স্থলপদ্ম
![]() |
---|
![]() |
![]() |
পুনেতে যখন প্রথম বাগান করি তখন এই সাদা স্থল পদ্মের গাছটি লাগিয়েছিলাম। প্রথম প্রথম দারুন ফুল দিত। বর্তমানে অনেক কুঁড়ি রয়েছে তবে গাছের পাতাগুলো অনেক কমে গেছে হয়তো শীতকাল বলেই। কারণ শীতের দিনে স্থলপদ্ম ফুটতো না। গাছটিকে আমি একটি চেয়ারের উপর তুলে দিয়েছি ফলে অনেকটাই রোদ লাগে এখন। দেখা যাক পরে কি হয়। আজ আবার জল দিতে গিয়ে দেখলাম অনেক পোকা লেগে গেছে। কাল পোকাগুলোর সদগতি করতে হবে।
গোলাপী বাগানবিলাস
![]() |
---|
![]() |
![]() |
রানী কালার বা ডীপ গোলাপি রঙের বাগান বিলাস পছন্দের নয় এমন মানুষ দেখতে কমই পাওয়া যায়। আমারও ভীষণ পছন্দের। তবে শুধু আমার পছন্দের নয় আমার বাড়ির খুব পছন্দের গাছ এটি। তাই যখনই যেখানেই যাই বাগান করার শুরুতেই এই বাগান বিলাসটি লাগিয়ে দিই। এই গাছটিরও বয়স প্রায় এক বছর হয়ে গেল। সারা বছরই অনেক ফুল দিয়েছে। আশা করবো ভবিষ্যতেও দিয়ে থাকবে।
বন্ধুরা, কেমন লাগল আমার বসন্ত শেষের বাগান? দুঃখের বিষয় কি জানেন? আমার একটি মাধবিলতা গাছ আছে। এক বছর ধরে পরিচর্যা করে যাচ্ছি। গাছ বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু কিছুতেই ফুল ফোটাতে পারছি না। কি যে করি। আপনাদের যদি কোন উপায় জানা থাকে তবে অবশ্যই শেয়ার করুন।
শেষ করার আগে বলি, এই ছবিগুলো একটু সামান্যও এডিট করিনি। যেমন তুলেছি তেমনিই আপনাদের কাছে দিলাম।
আজ তবে এই পর্যন্তই। আসি
টা টা

পোস্টের ধরণ | লাইফস্টাইল ব্লগ |
---|---|
ছবিওয়ালা | নীলম সামন্ত |
মাধ্যম | আইফোন, ১৪ |
লোকেশন | পুণে,মহারাষ্ট্র |
ব্যবহৃত অ্যাপ | ক্যানভা, অনুলিপি |
১০% বেনেফিশিয়ারি লাজুকখ্যাঁককে
~লেখক পরিচিতি~
আমি নীলম সামন্ত। বেশ কিছু বছর কবিতা যাপনের পর মুক্তগদ্য, মুক্তপদ্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করেছি৷ বর্তমানে 'কবিতার আলো' নামক ট্যাবলয়েডের ব্লগজিন ও প্রিন্টেড উভয় জায়গাতেই সহসম্পাদনার কাজে নিজের শাখা-প্রশাখা মেলে ধরেছি। কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধেরও কাজ করছি। পশ্চিমবঙ্গের নানান লিটিল ম্যাগাজিনে লিখে কবিতা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ ভারতবর্ষের পুনে-তে থাকি৷ যেখানে বাংলার কোন ছোঁয়াই নেই৷ তাও মনে প্রাণে বাংলাকে ধরে আনন্দেই বাঁচি৷ আমার প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ হল মোমবাতির কার্ণিশ ও ইক্যুয়াল টু অ্যাপল আর প্রকাশিতব্য গদ্য সিরিজ জোনাক সভ্যতা।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সব্বাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন৷ ভালো থাকুন বন্ধুরা। সৃষ্টিতে থাকুন।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/HTX_Global/status/1904751200777429366?t=yR3vkiSTgmfJRHQGf_LztQ&s=19
https://x.com/pussmemecoin/status/1904780443209130416?t=Hxs59xi426N2Di25P5WetA&s=19
https://x.com/pussmemecoin/status/1904780443209130416?t=Hxs59xi426N2Di25P5WetA&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1904804218181214370?t=so99B_GeB5_X_LbNuvGnpA&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1904803241885655449?t=u3GKRCmnLWaCBURyJx7s4Q&s=19
আপনার বাগানের ফটোগ্রাফি আগেও কয়েকবার দেখা হয়েছে। আজকে আরো কিছু ফুলের ফটোগ্রাফি দেখে সত্যি ভালো লাগলো। বিভিন্ন রকমের ফুলগাছ রয়েছে আপনার বাগানে। শ্বেত দূতী ফুলগুলো আগে কখনো দেখা হয়নি। বেলি ফুল আমার খুবই পছন্দের। অপরাজিতা ফুলের ফটোগ্রাফি দেখেও ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপু মনমুগ্ধকর কিছু ফুলের ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য।
আসলে বেলি ফুলের গন্ধ এত সুন্দর পুরো বাগানের সবাই যেন বদলে দেয়। মাঝেমধ্যে ভাবি আমার যদি বাড়ি থাকতো মানে আমি যেখানে থাকি আর কি, সেখানে সামনে যদি একটা বড় উঠোন থাকতো মনের মতন বাগান করতাম। অনেক ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
https://x.com/neelamsama92551/status/1904808282935746957?t=44K8xuSHwhUUyjNAtal2XA&s=19
বাহ, অনেক সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি ধারণ করেছেন আপু। চমৎকার লাগলো আপনার প্রতিটা ফটোগ্রাফি দেখে। ফটোগ্রাফির পাশাপাশি খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা দিয়েছেন। গুছিয়ে সুন্দর করে এত সুন্দর ফুল এবং লেখাগুলো শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
অনেক ধন্যবাদ আপু সুন্দর করে মন্তব্য করলেন দেখে ভালো লাগলো। এছাড়াও আমার ফটোগ্রাফিগুলো যে আপনার ভালো লেগেছে তা জেনে আমি নিজেও খুশি হলাম।
https://x.com/neelamsama92551/status/1904957460882014305?t=ShqUarX5xZw1_yHqe0VSbA&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1904958422476632389?t=anpHXnbyG8bZrO32gxpG2w&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1904959898347291063?t=YAR7PGMcUWDvB7JHx046fw&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1904960788718358958?t=snKbVngkFjEgoZoJLvdjRw&s=19
ঐরকম শহুরে জীবনে নিজের একটা বাগান থাকা অনেক বড় ব্যাপার। আর আপনার বাগানে দেখছি সব দেশী ফুল। বেলী ফুলটা আমার খুবই পছন্দের। দারুণ লাগছে দেখতে। পাশাপাশি অন্য ফুলের ফটোগ্রাফি গুলো দারুণ ছিল। আপনার বাগানের ফুল গুলো দেখে বেশ দারুণ লাগল।
হ্যাঁ ভাই, গাছগুলো আমি বাড়ি গেলে ওখানকার নার্সারি থেকেই কিনে আনি। সেই কারণে এরম দেশি লাগছে৷
বেলীফুলটা আজ আরও অনেক ফুটে গেছে। কী ভীষণ ভালো লাগছে দেখতে৷
ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করলেন।