ঈশ্বরের নিজের দেশ । কেরালা ভ্রমন পর্ব -৪
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,
সমস্ত ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের বাঙালি সহযাত্রীদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।


আশা করি আপনারা ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ আছেন, সব দিক থেকে ভালোও আছেন। আপনাদের সবার ভালো থাকা কামনা করে শুরু করছি আজকের ব্লগ।
থিরুভানান্থাপুরামে মন্দির আর বীচ দেখে প্রথম দিন কেটে যাবার পরে আমার আর বীচ দেখায় মন হল না৷ আসলে আমি গোয়াতে ছিলাম। তাই গোয়ার বাইরের বীচ আমায় খুব একটা টানে না। তাছাড়া বেড়াতে এসেছি যখন সব কিছুই দেখব আমার সেরকম মানসিকতা।
পরেরদিন তাই চললাম ন্যাপিয়ার মিউজিয়াম দেখতে৷ শুনেছিলাম বিরাট মিউজিয়াম কিন্তু পুরো একটা বেলা লেগে যাবে তা ভাবিনি। আপনাদের সাথে আগেই আর্ট মিউজিয়ামের কিছু ছবি শেয়ার করেছিলাম৷ তবে ওখানে যা জিনিসপত্র আছে তা সম্পূর্ণ শেয়ার করতে হলে আরও চার বা পাঁচটি পোস্টের প্রয়োজন হবে৷
ন্যাপিয়ার মিউজিয়ামে আমরা শুরুতেই গিয়েছিলাম জু অর্থাৎ চিড়িয়াখানা দেখতে। শুরুতে বুঝিনি কত বড়, কিন্তু আস্তে ধীরে যখন এগোলাম তখন দেখছি জু যেন শেষই হয় না৷
আমাদের সম্ভবত কুড়ি টাকা করে টিকিট ছিল৷ আর তিনটে ফ্যামিলি এখানে প্রায় আলাদাই হয়ে গিয়েছিলাম। আমরা ছ' জনে নিজেদের মতো বেরিয়ে পড়লাম৷ সাথে সামান্য স্ন্যাক্স আর জলের বোতল৷
জু-তে ঢুকেই প্রথমে বিশাল আকৃতির প্যাঁচার সাথে দেখা হল। আসলে এখানে শুধু মাত্র প্যাঁচা আছে তা নয়, ঘরটা গোলাকার যার সব দিকেই একটা করে খোপ ঘর আর তাতে নানান ধরণের পাখি৷ উঁচু উঁচু সিলিং হওয়ার কারণে পাখিগুলো ভালোই ওড়ার জায়গা পেয়েছে। প্যাঁচা পেরিয়ে গিয়ে আরও কিছু ধরণে পেঁচা পেয়েছি আর তার পর ম্যাকাও, কক্ক্যাটু টিয়ার বিভিন্ন জাত৷ অনেকগুলো ম্যাকাও ছিল। সত্যি বলতে কি পাখিটা যত সুন্দর দেখতে গলার স্বর ততই খারাপ।
এরপর আমরা এদিক ওদিক ঘুরে পৌঁছে গিয়েছিলাম পেলিকানদের জলাভূমি তে৷ অনেক পেলিকান। তারা নিজেদের মতো খাচ্ছে ঘুমোচ্ছে বসে আছে। আর উড়ে গেলে ডানার শব্দ যেন শব্দ নয় হুংকার৷
জু-তে এসে দেখলাম আমার মায়েরা সকলেই শিশু হয়ে গেছে৷ তাদের সে কী আনন্দ।
শিলমাছ দেখে মাকে বললাম এ সিন্ধু ঘোটক। সবাই মজা পেল। আর অন্যান্য জু তে একটা বা দুটো খুব বেশি হলে তিনটে প্রাণী থাকে৷ কিন্তু এখানে অনেকগুলো করে৷ সব থেকে বড় কথা অত্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন৷ আর প্রতিটা জীবজন্তুই হৃষ্টপুষ্ট অর্থাৎ খেয়ে মেখে দিব্য আছে৷
ভাল্লুক, হরিন ইত্যাদি ঘুরে এলাম জলহস্তির ঠিকানায়। একসাথে ছোট বড় এতোগুলো জলহস্তী যারা রীতিমতো ঘুরে বেড়াচ্ছে শেষ কবে দেখেছিলাম বা আদৌ দেখেছিলাম নাকি কোনদিন আমার মনে নেই। কলকাতার আলিপুর বা উড়িষ্যার নন্দনকানন কোথাও এরকম দেখিনি৷
গন্ডার দেখে ভাবছিলাম সত্যিই গন্ডারের চামড়া! উফফ সে কি মোটা! তবে গিন্ডার এদিক থেকে ওদিক যেভাবে টহল দিচ্ছিল তা দেখার মতো।
এছাড়াও আমরা অস্ট্রিচ, উটপাখি, নীলগাই বাঘ ইত্যাদি দেখার পর ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। খিদেও অএয়ে গিয়েছিল প্রচুর। জু-এর মাঝে একটা ছোট্ট স্টলে সিঙাড়া আর বিউলির ডালের মেদু বড়া বিক্রি হচ্ছিল। সাথে চা। খিদের পেটে কিছু না পেয়ে আমরা ওইগুলোই খেয়েছি। আর সে কি অমৃত স্বাদ৷ একথা সত্য যে খিদে পেটে সবই সুস্বাদু লাগে৷ আসলে তখন জিভের রসনা নয় পাকস্থলীর চাহিদা পুরণ।
যাইহোক খাবার দাবার খেলেও আমাদের আর হাঁটার ক্ষমতা ছিল না৷ প্রায় তিন ঘন্টা হেঁটে ফেলেছিলাম৷ এর পর গেটের বাইরে চলে আসার পথ ধরি৷ সেখানেও কমতি নেই। তবে বাটারফ্লাই অর্থাৎ প্রজাপতি বাগান ও আর্টিফিশিয়াল ঝরণা দেখে আটকে গেলাম ময়ূরের খাঁচায়৷
কতগুলি ময়ূর ময়ূরী নিজেদের মতো এদিক ওদিক ঘুরছে আর কেউ কেউ তো শুয়ে পড়েছে কেউ আবার উঠে দাঁড়িয়েছে৷ দেখে দেখে ভাবছিলাম এমন সুন্দর দেখতে পাখিরই তো জাতীয় পাখি হওয়ার কথা। আমি কয়েকটি ভিডিও তুলেছিলাম। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে সেসব শেয়ার করব।
তবে জু থেকে বেরিয়ে আইস্ক্রিম খেয়ে রেস্ট নিয়ে চলে গিয়েছিলাম আর্ট মিউজিয়ামে। সেই গল্পের কিছুটা জানেন আপনারা, বাকি বলব পরের পর্বে। আজ এপর্যন্তই থাক।
টা টা।

পোস্টের ধরণ | ভ্রমণ ব্লগ |
---|---|
ছবিওয়ালা | নীলম সামন্ত |
মাধ্যম | আইফোন ১৪ |
লোকেশন | https://what3words.com/thickens.stall.sprawls |
ব্যবহৃত অ্যাপ | ক্যানভা, অনুলিপি |
১০% বেনেফিশিয়ারি লাজুকখ্যাঁককে
~লেখক পরিচিতি~
আমি নীলম সামন্ত। বেশ কিছু বছর কবিতা যাপনের পর মুক্তগদ্য, মুক্তপদ্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করেছি৷ বর্তমানে 'কবিতার আলো' নামক ট্যাবলয়েডের ব্লগজিন ও প্রিন্টেড উভয় জায়গাতেই সহসম্পাদনার কাজে নিজের শাখা-প্রশাখা মেলে ধরেছি। কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধেরও কাজ করছি। পশ্চিমবঙ্গের নানান লিটিল ম্যাগাজিনে লিখে কবিতা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ ভারতবর্ষের পুনে-তে থাকি৷ যেখানে বাংলার কোন ছোঁয়াই নেই৷ তাও মনে প্রাণে বাংলাকে ধরে আনন্দেই বাঁচি৷ আমার প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ হল মোমবাতির কার্ণিশ ও ইক্যুয়াল টু অ্যাপল আর প্রকাশিত গদ্য সিরিজ জোনাক সভ্যতা।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সব্বাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন৷ ভালো থাকুন বন্ধুরা। সৃষ্টিতে থাকুন।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/neelamsama92551/status/1893721471991570670?t=tT9C5cAE47DVFWm2gledGA&s=19
বেশ সুন্দরভাবেই প্রতিটি ধাপ উপস্থাপন করেছেন, বড় এরিয়া হলে আসলে একত্রে সব কিছু উপভোগ করা যায় না তাতে সময় অনেক বেশি লেগে যায়। আমার যাওয়ার ইচ্ছা আছে দার্জিলিং, তবে আপনার ভ্রমণ দেখে কেরালায় যাওয়ার আগ্রহও বাড়ছে হি হি হি। দেখা যাক কতটা সুযোগ মেলে। অনেক ধন্যবাদ
দার্জিলিং আমার খুবই পছন্দের জায়গা। তবে খুব ছোটবেলায় গেছি। আজ আর মনে নেই৷ আর এখন এতো ভিড় হয়। কেরালা ঘুরতে পারেন। তবে সময় লাগে। এতো দারুণ সব দেখার জায়গা। আমি সবটা কভার করতে পারিনি। যাব আবারও৷ কেরালায় জানেন তো উপমহাদেশের প্রথম মসজিদ তৈরি হয়েছিল। যা আজও আছে। এই মসজিদ তৈরি হওয়া থেকেই মুসলিম ধর্মের অগ্রগতি শুরু হয়। খুবই ঐতিহাসিক জায়গা৷ কোচিতেই তো ভাস্কোদাগামা প্রথম পা দিয়েছিলেন৷ ভাস্কো দাগামার তৈরি করা গীর্জা এবং ওনার প্রথম সমাধিক্ষেত্র এখানেই। দেখাবো পরের পোস্টগুলোতে।
দিলেন তো আরো লোভ বাড়াইয়া।
ন্যাপিয়ার মিউজিয়ামের চিড়িয়াখানাতে অনেক প্রাণী দেখলাম। ফটোগ্রাফি গুলো স্পষ্ট ছিল। ময়ূরটা খুবই সুন্দর লাগছে। পেখম মেললে দেখতে দারুণ লাগে। ধন্যবাদ।
ময়ুরের একটা ভিডিও তুলেছিলাম যেখানে ময়ুরটি ল্যাজ দুলিয়ে দুলিয়ে যাচ্ছিল। তবে এই সময় কেউই পেখম তোলেনি।
আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগল। ধন্যবাদ নেবেন৷