পদ্মের বাহার।। অরিগ্যামি পোস্ট
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,
আশাকরি আপনারা বেশ ভালোই আছেন৷ আমিও ভালো আছি। দেশের বাড়ি এসে নানান জায়গা ঘুরছি। যদিও সময় ফুরিয়ে আসছে৷ তাও। গতকাল কলকাতা এসেছি। কলেজস্ট্রিটে রঙিন কাগজ কিনলাম৷ ক্লে কিনলাম। পুনের থেকে কলকাতায় সব কিছুই অনেক কম দাম৷ তাছাড়া কলেজস্ট্রিট প্রাণের জায়গা৷ এখানে ঘুরতে বেশ ভালোই লাগে৷ রাস্তায় কত স্মৃতি কত পায়ের ছাপ, হাঁটতে হাঁটতে কেউ কাউকে ঘিরে ধরে না৷ তাও ভিড় করে। এই সব কিছু নিয়েই ফিরে যাই। আরও বেশ কিছুদিন প্রবাসে কাটিয়ে ফেলি৷
আপনাদের সকলের শারিরীক সুস্থতা কামনা করে আজকের ব্লগ শুরু করছি৷ কলেজস্ট্রিট থেকে যে রঙিন কাগজ কিনেছিলাম তাকেই কাজে লাগিয়ে বানিয়ে নিয়েছি কাগুজে পদ্মফুল। আসুন ডিটেলসে দেখে নিই।
🪷উপকরণ🪷
- গোলাপি রঙের বর্গাকার কাগজ।
🪷ফুল ফোটানোর পদ্ধতি🪷
![]() | ![]() |
---|
- দুই বিপরীত দিক ভাঁজ করে নিলাম শুরুতেই। ফলে দু'দিকেই সুন্দর দেখতে ত্রিভুজ তৈরি হল।
![]() | ![]() |
---|
দু'টো ত্রিভুজের ভাঁজ খুলে দেবার ফলে মাঝে একটি বিন্দু তৈরি হয়েছে।
এবার খোলা কাগজের চারটি কোন ওই মধ্যবর্তী বিন্দুতে নিয়ে গিয়ে ছোট ছোট ত্রিভুজ সমেত একটি ছোট আকারের বর্গক্ষেত্র বানিয়েছি।
![]() | ![]() |
---|
প্রথম ফোল্ড যে দিকে করেছি সেই দিকেই আবার কোনগুলো মাঝে নিয়ে গিয়ে ত্রিভুজের ভাঁজ করেছি৷
চারদিকেরই করার পরে আরও ছোট সাইজের বর্গক্ষেত্র তৈরি হল।
![]() | ![]() |
---|---|
![]() | ![]() |
এবার কাগজটাকে উলটে নিলাম।
সামনের দিকে যেমন ভাঁজ করেছিলাম একই পদ্ধতিতে পেছন থেকেও ভাঁজ করলাম।
চার কোনই ভাঁজ করেছি।
এবার ভাঁজটা আলগা করে খুলে দিলাম।
![]() | ![]() |
---|
ভাঁজ খুলে দেবার পর কাগজটা পুনরায় উলটে দিলাম এবং এক একটি কোন ছবির পচ্ছতি অনুযায়ী ভাঁজ করেছি। মানে খানিকটা ছেড়ে করেছি।
চার কোণই একই ভাবে ভাঁজ করেছি।
![]() | ![]() |
---|
আবার কাগজটি উলটে রাখলাম।
যে কোনগুলো ওপরের অংশে রয়েছে তার একটা মাঝে নিয়ে এলাম।
![]() | ![]() |
---|
একই ভাবে বাকি তিনটে কোণও একই ভাবে মাঝে আনলাম। কিন্তু কোনভাবেই চেপে মুড়ে দিইনি। এভাবে তৈরি হল পদ্মের চারটে পাপড়ি৷
পেছনের দিকে একটা ভাঁজ পড়ে থাকে। সেটাকেই সাবধানে খুলে নিলাম।
![]() | ![]() |
---|
আলতো হাতে ভাঁজটা আনফোল্ড করে মাথার অংশটা একটু টেনে মুড়িয়ে নিয়েছি৷
একই ভাবে চারটে পাপড়ি বানালাম৷
এভাবেই তৈরি করে নিলাম কাগজের পদ্ম।
🪷🪷অন্তিম দর্শন🪷🪷
বন্ধুরা, কেমন লাগল আমার আজকের ফোটানো পদ্মফুল? আশাকরি ভালো লাগবে৷ এই ফুলটি আমি আমার এক সন্তান সম বাচ্চাকে গিফট করেছি। সে তো বেজায় খুশি এবং আজ সে স্কুলেও নিয়ে গেছে বন্ধুদের দেখাবে বলে। এই তো প্রাপ্তি। এই আনন্দ৷
আবার আসব নতুন কিছু নিয়ে৷ আজ এ পর্যন্তই।
টা টা

পোস্টের ধরণ | অরিগ্যামি পোস্ট |
---|---|
ছবিওয়ালা | নীলম সামন্ত |
মাধ্যম | স্যামসাং এফ৫৪ |
লোকেশন | পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ |
ব্যবহৃত অ্যাপ | ক্যানভা,ইনশট |
১০% বেনিফিসিয়ারি লাজুক খ্যাঁককে

আমি নীলম সামন্ত। বেশ কিছু বছর কবিতা যাপনের পর মুক্তগদ্য, মুক্তপদ্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করেছি৷ বর্তমানে 'কবিতার আলো' নামক ট্যাবলয়েডের ব্লগজিন ও প্রিন্টেড উভয় জায়গাতেই সহসম্পাদনার কাজে নিজের শাখা-প্রশাখা মেলে ধরেছি। কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধেরও কাজ করছি। পশ্চিমবঙ্গের নানান লিটিল ম্যাগাজিনে লিখে কবিতা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ ভারতবর্ষের পুনে-তে থাকি৷ যেখানে বাংলার কোন ছোঁয়াই নেই৷ তাও মনে প্রাণে বাংলাকে ধরে আনন্দেই বাঁচি৷ আমার প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ হল মোমবাতির কার্ণিশ ও ইক্যুয়াল টু অ্যাপল আর প্রকাশিতব্য গদ্য সিরিজ জোনাক সভ্যতা।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সব্বাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন৷ ভালো থাকুন বন্ধুরা। সৃষ্টিতে থাকুন।
বেশ সুন্দর বানিয়েছেন কাগজের ভাঁজে ভাঁজে ফুটন্ত পদ্ম। আর দেখতেও বেশ সুন্দর লাগছে। প্রতিটি বর্ণনা বেশ সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। পদ্ম ফুল বানানোর জন্য কাগজের রং সিলেকশনো যথার্থ হয়েছে।নেক অনেক শুভ কামনা আপনার জন্য।
চেষ্টা করেছি আপু নতুন নতুন করছি তো তাই বুঝতে পারছি না। আপনার যে ভালো লেগেছে তা জেনে খুশি হলাম ধন্যবাদ জানবেন।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/neelamsama92551/status/1854476965014573315?t=4CMmt6wayaM_wr4q7c1Kqg&s=19
কাগজ ভাজ দিয়ে আমি অনেক ধরনের জিনিস তৈরি করেছি তবে কখনো এভাবে পদ্মফুল তৈরি করা হয়নি। আপনার আইডিয়াটা কিন্তু দারুণ আপু। খুবই সুন্দরভাবে পদ্মফুল তৈরির প্রতিটি ধাপ আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। দেখে কেউ খুব সহজেই শিখে নিতে পারবে। ধন্যবাদ আপু।
অনেক ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকলেন৷ সত্যি বলতে কি আগে কাগজের অরিগ্যামি একেবারে পারতাম না কিন্তু এখানে কাজ করার জন্য একটু একটু করে শিখছি। আপনার ভালো লেগেছে জেনে আপ্লুত হলাম।
রঙিন কাগজ দিয়ে আপনি চমৎকার পদ্মফুল তৈরি করেছেন।সত্যি ভাজে ভাজে সুন্দর দেখিয়েছেন।বেশ ভালো লেগেছে আপনার পদ্মফুলটি। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটা ডাই আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
গতকাল একটি বাচ্চার সাথে খেলতে খেলতেই বানিয়ে ফেলেছিলাম সেটাই যে আপনার এত ভালো লেগেছে তার জন্য আমি আনন্দিত। ভালো থাকবেন আপু।
কী সুন্দর ভাবে একটি পদ্মফুল তৈরি করলি কাগজ মুড়ে মুড়ে। অসাধারণ একটি হাতের কাজ। এমন সুন্দর অরিগামি দেখতে সব সময় ভালো লাগে। আর সব থেকে ভালো লাগলো পোস্টের উপস্থাপনা। তোর এই ধরনের কাজগুলো করবার চেষ্টাটাই আমাকে মুগ্ধ করে দেয়। একদম শেষে অন্তিম দর্শনটি দারুণ হয়েছে।।
ভালো লাগে যখন, এরপর থেকে প্রতি সপ্তাহে তোমারও কিছু অরগ্যামি পোস্ট দেখতে পাবো নিজের হাতে তৈরি করা। কিন্তু আমার পোস্টটি যে তোমার খুব ভালো লেগেছে তা জেনে আনন্দ পেলাম।
দেখি চেষ্টা করব যদি কিছু বানাতে পারি৷
অরিগ্যামি পোস্ট মানে কাটা,আঠা ছারা শুধু ভাজে ফেলে কিছু বানানো। আপনি সব নিয়ম মেনেই পদ্নের বাহার অরিগ্যামি করেছে। ভীষণ চমৎকার সুন্দর হয়েছে আপনার বানানো পদ্নটি।ধাপে ধাপে রঙ্গিন কাগজ দিয়ে পদ্না বানানো পদ্ধতি আমাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
হ্যাঁ গো অনেকগুলো চেষ্টা করেছি।
কাগজ একেবারেই না কেটে কেবলমাত্র ভাজ করে যে এত সুন্দর পদ্ম বানানো যায় আগে জানতাম না। তোমার ভালো লেগেছে জেনে আনন্দ পেলাম। ভালো থেকো।
বাহ! দারুন ছিল আপনার অরিগামিটা। পদ্ম ফুল টা খুব সুন্দর হয়েছে। সুন্দর ভাবে আপনি প্রত্যেকটা স্টেপ আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। গোলাপি রঙের হওয়ার কারণে আরো বেশি ভালো লাগছে দেখতে। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর অরিগামি শেয়ার করার জন্য।
আপু আমি চেষ্টা করছি মাত্র সেটাই যে আপনার একটা ভালো লেগেছে তার জন্য ধন্যবাদ জানাই।
পদ্মের বাহার এর অরিগ্যামি দেখে খুব ভালো লাগলো। রঙ্গিন কাগজ দিয়ে খুব সুন্দর করে পদ্মের বাহার এর অরিগ্যামি তৈরি করেছেন। বেশ দুর্দান্ত হয়েছে। পদ্মের বাহার এর অরিগ্যামি তৈরি প্রক্রিয়া আমাদের মাঝে খুব সুন্দর করে ধাপে ধাপে উপস্থাপন করেছেন। এতো অসাধারণ ডাই পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
আমি যেভাবে বানিয়েছি সেই পদ্ধতিতেই দেখিয়েছি ধাপে ধাপে। পুরো পোস্ট পড়ে যে মন্তব্য করলেন তার জন্য ধন্যবাদ জানাই।