কলকাতার গঙ্গায় নিজে চোখে কুমির দর্শন। এক বিরল অভিজ্ঞতা
কলকাতার গঙ্গায় কুমির😵💫
আজ যে আকস্মিক ঘটনা নিজে চোখে দেখলাম তা আপনাদের সঙ্গে ভাগ না করলেই নয়। এমন আমি জীবনে প্রথম দেখলাম। এই অভিজ্ঞতা আজ আপনাদের সবাইকে বলব। জানিনা ক'জন মানুষের এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমরা কুমির দেখতে অভ্যস্ত চিড়িয়াখানায়। সুন্দরবন অঞ্চলে কুমিরের চাষ হয়। কিন্তু কলকাতা শহরের আশেপাশে গঙ্গায় যদি বিশাল আকার কুমির ভেসে চলতে দেখা যায়, তবে আতঙ্কিত এবং হতবাক হওয়ার বিষয় তো থাকেই। অনেকদিন ধরেই শুনছি গঙ্গায় নাকি কুমির এসেছে। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি ভিডিও চোখে আসছিল। কোথাও বাড়ির আনাচে কানাচে বা উঠোনে, আবার কোথাও দেখা যাচ্ছিল গঙ্গার পাশে রোদ পোহাচ্ছে পেল্লায় আকারের কুমির। আমিও রোজ গঙ্গা পারাপার করার সময় হাপিত্যেশ হয়ে চেয়ে থাকতাম জলের এদিকে ওদিকে। যদি কপাল গুণে একটা চোখে পড়ে যায়। কিন্তু অবিশ্বাসের বিন্দুটা ভেতর থেকে সরছিল না। গঙ্গায় আবার কুমির!! এ কি রূপকথার আজগুবি গল্প নাকি?
কিন্তু সুযোগ মিলে গেল গতকাল। তখন কর্মস্থল থেকে ফিরছি লঞ্চে করে। হঠাৎ দেখলাম কি যেন একটা কলা পাতার মতো ভেসে যাচ্ছে। আমাদের লঞ্চটাও কৌতুহলবশত সেই দিকে ঘুরে গেল। তারপর লক্ষ্য করলাম লঞ্চটা সেই ভাসমান জিনিসটাকে ঘিরে গোল করে ঘুরতে শুরু করছে। আসলে মাঝিও গঙ্গায় ভাসমান কুমির দেখাতে চাইছিল আমাদের। রব উঠলো লঞ্চে যাত্রীদের মধ্যে। কুমির! কুমির! কুমির! সত্যিই দেখলাম একটা বেশ বড় সাইজের কুমির জলে সাঁতার দিয়ে নিজের খেয়ালে ভেসে যাচ্ছে একদিক থেকে আরেক দিকে। আমি আমার মোবাইল ক্যামেরায় ধরে রাখার চেষ্টা করলাম মুহূর্তটা। যদিও খুব ভালো এইচ ডি কোয়ালিটির ভিডিও আমার মোবাইলে হয় না। তবু আপনাদের বোঝানোর মত ভিডিও তোলার চেষ্টা করলাম কিছুটা জুম করে।
(৫% বেনিফিশিয়ারি এবিবি স্কুলকে এবং ১০% বেনিফিশিয়ারি প্রিয় লাজুক খ্যাঁককে)
--লেখক পরিচিতি--
কৌশিক চক্রবর্ত্তী। নিবাস পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। পেশায় কারিগরি বিভাগের প্রশিক্ষক। নেশায় অক্ষরকর্মী। কলকাতায় লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত৷ কলকাতা থেকে প্রকাশিত কবিতার আলো পত্রিকার সহ সম্পাদক। দুই বাংলার বিভিন্ন প্রথম সারির পত্রিকা ও দৈনিকে নিয়মিত প্রকাশ হয় কবিতা ও প্রবন্ধ। প্রকাশিত বই সাতটি৷ তার মধ্যে গবেষণামূলক বই 'ফ্রেডরিক্স নগরের অলিতে গলিতে', 'সাহেবি কলকাতা ও তৎকালীন ছড়া' জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সাহিত্যকর্মের জন্য আছে একাধিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি। তার মধ্যে সুরজিত ও কবিতা ক্লাব সেরা কলমকার সম্মান,(২০১৮), কাব্যলোক ঋতুভিত্তিক কবিতায় প্রথম পুরস্কার (বাংলাদেশ), যুগসাগ্নিক সেরা কবি ১৪২৬, স্রোত তরুণ বঙ্গ প্রতিভা সম্মান (২০১৯), স্টোরিমিরর অথর অব দ্যা ইয়ার, ২০২১, কচিপাতা সাহিত্য সম্মান, ২০২১ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
ধন্যবাদ জানাই আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যবন্ধুদের৷ ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
দাদা তোমার মোবাইলে রেকর্ড করা সেই ভিডিওটা দেখে গা শিউরে উঠলো। তবে
লঞ্চ ড্রাইভার এবং লঞ্চ যাত্রী সবাইরে সাহস আছে বলা যায়। আমিতো ভিডিও দেখেই ভয় পাচ্ছিলাম। তোমার বাস্তবে কুমির দেখার অনুভূতিটা পড়ে দারুন লাগলো দাদা।
সেদিন পোস্টটা দেখেছিলাম,পড়াও হয়েছিল তবে ছেলের যন্ত্রণায় আর কমেন্ট করতে পারিনি। যাইহোক এখানে গঙ্গায় কুমির দেখার দৃশ্যটা অবাক করা বিষয়। যেখানে এত এত মানুষ গোসল করে সেখানে এক রকম আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ালো। যদি লোকমুখে শোনা কথা হতো তাহলে হয়তো অবিশ্বাস করা যেত। কিন্তু এখন ভিডিওতেই তো দেখা যাচ্ছে বড় কুমির ভেসে যাচ্ছে। এর বিপরীতে কোন ব্যবস্থা যদি সরকার না গ্রহণ করে তাহলে হয়তো অনেক ক্ষয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে সাধারণ জনগণকে।
শুনছি গঙ্গার ইকোসিস্টেম বজায় রাখার জন্য ইচ্ছাকৃতই নাকি কুমির চাষ করে ছাড়া হচ্ছে সরকারের তরফে৷ ভয়ঙ্কর ব্যাপার৷ আর গঙ্গায় নামা যাবে না যা অবস্থা।